দুধ খাওয়ার উপকারিতা | Jemon Blog
ঢাকারবিবার - ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অনলাইন জব
  2. গল্প জানুন
  3. টেক আপডেট
  4. লাভ স্টোরি
  5. সাকসেস লাইফ
  6. সোস্যাল আপডেট
  7. হেলথ টিপস

দুধ খাওয়ার উপকারিতা

যেমন ব্লগ ডেক্স
সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১ ১:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ad

প্রাচীনকাল থেকেই দুধ মানুষের অতি প্রিয় পানীয়। দুধ একটি সুষম খাদ্য। শাস্ত্রে দুধকে বলা হয়েছে পৃথিবীর অমৃত। দুধ রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমাদের শরীর।রোগমুক্ত থাকে। মূল কথা, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দুধের ভূমিকা অপরিসীম। সর্বোচ্চ পুষ্টিমানের জন্যই দুধ সব খাদ্যের সেরা। এবং খেতে ও সুস্বাদু। তাই আপনাদের মাঝে এখন আলোচনা করবো দুধ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

দুধের মধ্যে খাদ্যের প্রধান ছয়টি উপাদানই একসঙ্গে পাওয়া যায়। প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম বেশি পাওয়া যায়। যা হাড়ের জন্য ও শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য খুবই প্রয়োজন। হাড়ের গঠন মজবুত করতেও দুধের ভূমিকা অপরিসীম।

দুধ খাওয়ার উপকারিতা

দুধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে ল্যাকটোজ বা ল্যাকটিক অ্যাসিড। যা দৈহিক গঠন, বিকাশ ও মেধা বৃদ্ধিতে সহায়ক। গরুর দুধে আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, খনিজ পদার্থ যেমন ক্রোমিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, কোবাল্ট, কপার, জিংক, আয়োডিন ও সেলিনিয়াম। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে,ক্যানসার ও হৃদরোগ প্রতিরোধে দুধের শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে। গরুর দুধ সব পুষ্টির আধার ও শক্তির উৎস। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য ননী মুক্ত দুধ বিশেষ উপকারি।

আরো পড়ুনঃ  Happiness আসলে কি? - আয়মান সাদিক

অন্তঃস্বত্ত্বা নারীদের প্রথম তিন মাস  দুধ খাওয়া প্রয়োজন। এছাড়া দুধে সামান্য কাঁচা হলুদ দিয়ে রান্না করলে তা শরীরের সৌন্দর্যের জন্যও বিশেষ উপকারি। কাঁচা দুধের পুষ্টির পরিমাণ বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হলেও তাতে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ কারনে দুধ আমাদের জন্য উপকারী।দুধ খাওয়ার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।

ad

তবে নিচে এর কিছু উপকারিতা উল্লেখ করা হলো-

১. হাড় ও দাঁতের গঠন:

দুধে উপস্থিত ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে। দুধের ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁতে শোষিত হয়ে এদের গড়ন দৃঢ় করে। প্রতিদিন দুধ পান করলে দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া। দাঁতে পোকা ও হলুদ আকার দাগ পড়া।হাড় ক্ষয়ের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। দাঁত হবে মজবুত।

২.খাবারের চাহিদা:

আপনি যদি প্রতিদিন এক গ্লাস করে দুধ পান করে তাহলে দেখতে পারবেন আপনার খিদার চাহিদা অনেকটা মিটিয়ে গিয়েছে।নাস্তার সময় দুধ পান করলে অনেক সময় ধরে সেটা পেটে থাকে। ফলে ক্ষুধা কম থাকে। এছাড়া দুধ পানের ফলে দেহের অনেক ধরণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। তাই ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগলে এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কম সময়ে ওজন কমাতে চাইলে, প্রতিদিনের ডায়েটে দুধ রাখুন।ডায়েট এর ক্ষেত্রে দুধ খুব উপকারী।

আরো পড়ুনঃ  ডিম খাওয়ার উপকারিতা

৩. মানুষিক দুশ্চিন্তা:

দুধে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল ফিটনেস বাড়ায় ও মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে। দুধ পানে ঘুমের উদ্রেক হয়, যার ফলে মস্তিষ্ক শিথিল থাকে ও মানসিক চাপমুক্ত হয়। সারাদিনের মানসিক চাপ দূর করে শান্তির ঘুম নিশ্চিত করতে প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ পান করুন। এতে আপনার ঘুম ভালো হবে।

৪. ডিহাইড্রেশন সমস্যা:

আমার অনেকেই ডিহাইড্রেশন সমস্যায় ভুগে থাকি।দুধ আমাদের শরীরকে রি-হাইড্রেট করতে সাহায্য করে। ডিহাইড্রেশনের সমস্যায় ভুগলে এক গ্লাস দুধ পান করে নিন। সুস্থ বোধ করবেন।

৫.কোষ্ঠকাঠিন্য :

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থাকলে এবং দুধজাতীয় খাবারে অ্যালার্জি না থাকলে রাতে ঘুমনোর আগে প্রতিদিন এক গ্লাস গরম দুধ পান করুন। এতে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর হবে। আপনার শরীর ভালো থাকবে।

৬. পিরিয়ড সমস্যা:

শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা ঠিক না থাকলে প্রি মেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম হতে পারে। তাই পিরিয়ডের সময় পেট ব্যথা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে খেয়ে নিন এক গ্লাস দুধ।ব্যথার উপশম হবে তাহলে।

৭.প্রোটিন চাহিদা:

দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা মাংশপেশির গঠনে সহায়তা করে ও মাংশপেশির আড়ষ্টতা দূর করে। শিশুদের মাংশপেশির গঠন উন্নত করতেও প্রতিদিন দুধ পান করা উচিত।

আরো পড়ুনঃ  খাবার খাওয়ার উপকারিতা

৮. গ্যাস এর সমস্যা:

প্রতিদিন আমরা এমন অনেক ধরণের খাবার খাই যার ফলে আমাদের অ্যাসিডিটি হয় ও বুক জ্বালাপোড়া করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ সমাধান, প্রতিদিন দুধ পান। দুধ পাকস্থলী ঠাণ্ডা রাখে ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দূর হয়।

৯. রোগ প্রতিরোধ:

দুধে অধিক পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। যা দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন দুধ পানে ত্বক নরম, কোমল ও মসৃণ হয়।

১০. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ:

দুধ খাওয়ার মাধ্যমে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাহলে দেখা গেলো দুধ আমাদের শরীরের জন্য খুব বেশি উপকারী। প্রতি দিন এক গ্লাস দুধ পান করলে অনেক উপকার পাওয়া যায় ও অনেক রোগের হাত থেকে বেঁচে থাকা যায়। তাই আমাদের প্রতিদিন দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।