পান্তা ভাত খাওয়ার উপকারিতা | Jemon Blog
ঢাকাসোমবার - ৩০ আগস্ট ২০২১
  1. অনলাইন জব
  2. গল্প জানুন
  3. টেক আপডেট
  4. লাভ স্টোরি
  5. সাকসেস লাইফ
  6. সোস্যাল আপডেট
  7. হেলথ টিপস

পান্তা ভাত খাওয়ার উপকারিতা

যেমন ব্লগ ডেক্স
আগস্ট ৩০, ২০২১ ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ad

ভাত অথবা পানিতে ভেজানো ভাতকে পান্তা ভাত বলা হয়। আমরা বাঙালিরা কমবেশি সকলেই পান্তা ভাত খেতে পছন্দ করে থাকি।বাঙালির খাবারের তালিকায় এটি সবার উপরে থাকে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উড়িষ্যা এবং আসাম ছাড়াও বিভিন্ন জায়গাতেই এই পান্তা ভাতটিকে বহুল প্রচলিত খাবার হিসেবে মানা হয়ে থাকে। পান্তা ভাত খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে এখন কিছু কথা বলব।

আসলে পান্তাভাত এমন একটি খাবার যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। পান্তাভাতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, এসব পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরে বিভিন্ন উপকার করে থাকে। ভোর বেলায় পানি দিয়ে এবং কাঁচামরিচ দিয়ে যে ভাত খাওয়া হয় তাকে পান্তাভাত বলে ।আসলে বৈশাখ মাসে গরিব-দুঃখী বড়লোক সব শ্রেণীর মানুষের পান্তা ভাত খেয়ে থাকে।

পান্তাভাতে অনেক পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় এবং এগুলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এবং নববর্ষের দিন আমরা প্রধানত এই পান্তা ভাতের সাথে বিভিন্ন রকমের ভর্তা এবং ইলিশ মাছের ভাজি টা খেয়ে থাকি। কিন্তু আমরা অনেকেই পান্তা ভাতের যে গুনাগুন সেটা সম্পর্কে অবগত নই। তো চলুন দেখে নেয়া যাক পান্তা ভাতে কি কি উপকারিতা রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ  শসা ও গাজর খাওয়ার উপকারিতা

পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ বিদ্যমান রয়েছে। সাধারণত পান্তা ভাতকে গরীবের খাবার বলেই গণ্য করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে পান্তাভাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আসামের এক কৃষিবিদদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মধুমিতা বড়ুয়া বলেন যে, রান্না করা ভাতে এমন কিছু গুণাগুণ রয়েছে যা সোডিয়াম ক্যালসিয়াম ইত্যাদি তৈরিতে বাধা দেয়, পর্যাপ্ত প্রাপ্তিতে বাধা দেয়।

ad

পান্তা ভাত নিয়ে কিছু কথা

অধ্যাপক মধুমিতা বড়ুয়ার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে যে, ১০০ গ্রাম রান্না করা ভাতের চেয়ে সমপরিমাণ পান্তা ভাতে রয়েছে আয়রন ক্যালসিয়াম ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউট্রিশন ও পুষ্টিবিদ খালেদা ইসলাম বলেন, ভাতের গাজন প্রক্রিয়ার পর কিছু পুষ্টি উপাদান ভেঙে দেওয়ার ফলে খাদ্য সহজে হজম হয়। ভাতের গাজন প্রক্রিয়া সহজ ভাবে না হলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রূপ ধারণ করতে পারে। এছাড়াও কিছু বিষয় রয়েছে যেমন, খাবারের পেয়ালাটি সঠিকভাবে ঢাকতে হবে যাতে ধুলাবালি ভিতরে প্রবেশ করতে না পারে।

খাবারে ধুলাবালি প্রবেশের ফলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। ধুলাবালি যুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গাজন কৃত ভাত খাদ্যনালীর প্রদাহ উপশম ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়াও পান্তা ভাত আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। পূর্ব কথিত রয়েছে পান্তা ভাতের, ‘ফল তিন পুরুষের বল”। বিজ্ঞানীদের মতে পান্তাভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুনাগুন।

আরো পড়ুনঃ  স্বাস্থ্য রক্ষা করার উপায়

পান্তা ভাত তৈরির প্রস্তুত প্রণালীঃ-

স্বাভাবিক নিয়মে একটি হাড়িতে ভাত রান্না করে নিতে হবে। এরপর একটি পাত্রে ঠান্ডা পানি নিয়ে ওই ভাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। কমপক্ষে ভাতের এক ইঞ্চি উপরে পর্যন্ত পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। কমপক্ষে ৮ ঘন্টা থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ভাত রেখে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে,অবশ্যই পাত্রটি সুন্দর করে ঢেকে রাখতে হবে যাতে ধুলাবালি মুক্ত থাকে।

পান্তাভাতের পরিবেশন পদ্ধতি:-

আগেকার দিনে বিভিন্ন রকমের ভর্তা যেমন মাছের ভর্তা কালো জিরা ভর্তা,আলু ভর্তা এগুলোর সাথে পান্তা ভাত পরিবেশন করত। পেঁয়াজ কাঁচামরিচ সরিষার তেল এগুলোর সাথে ও পান্তাভাতের জুড়ি নেই। আমরা এটি নববর্ষের উৎসব হিসেবে পালন করে থাকি। পান্তা ভাত আমরা বিভিন্ন কিছুর সাথে খেতে পারি যেমন বেগুন ভর্তা এছাড়া বিভিন্ন ভর্তা। আগেকার দিনের শ্রমজীবী মানুষেরা এই পান্তাভাতের সাহায্যে সকালের নাস্তা করত কিন্তু তখন তারা জানত না পান্তা ভাতের পুষ্টি গুনাগুন সম্পর্কে। পান্তা ভাতের পুষ্টি গুনাগুন রয়েছে তাও বর্তমানে প্রমাণিত বিজ্ঞানীদের দ্বারা।

পান্তা ভাত নিয়ে ভিন্নতর আলোচনা:-

সম্প্রতি মাস্টারশেফ প্রতিযোগিতা অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালে এক নারী কিশোয়ারী চৌধুরী পান্তা ভাত তৈরি করে সকলকে চমকে দিয়েছেন। মানুষ বিভিন্ন রকম রান্না প্রস্তুত করে থাকেন। তবে তার খাবারটি ছিল একেবারেই ভিন্ন। তিনি পান্তা ভাতকে সুন্দর পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। এটি নিয়ে মিডিয়ায় বিভিন্ন আলোড়নের সৃষ্টি হয়। তার এই ভাতের উপরেই বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন। এর ফলেই আমরা এটির পুষ্টি ও গুনাগুণ সম্পর্কে আমরা অবচেতন হয়ে থাকি।

আরো পড়ুনঃ  ফেসবুক পেইজ ব্লু ব্যাজ ভেরিফাইড

সারারাত ধরে তৈরিকৃত পান্তাভাতে এক প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রক্রিয়াজাতকরণ হয়। হাড়িতে ঢেকে রাখা ভাত বাতাসের কিংবা অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসতে পারে না। বিজ্ঞানীরা বলেছেন ভাতের এ কারণেই ডিফ্রাগমেন্টেশন বা গাজন প্রক্রিয়া তৈরি হয়। এটিকেই, আমরা গাজন প্রক্রিয়া বলে জেনে থাকি। মধুমিতা বড়ুয়া আরো বলেছেন, ভাতের এই প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভাতের কার্বোহাইড্রেট ভেঙে যায়।