রসুন চাষ করার পদ্ধতি | Jemon Blog
ঢাকাশনিবার - ২৮ আগস্ট ২০২১
  1. অনলাইন জব
  2. গল্প জানুন
  3. টেক আপডেট
  4. লাভ স্টোরি
  5. সাকসেস লাইফ
  6. সোস্যাল আপডেট
  7. হেলথ টিপস

রসুন চাষ করার পদ্ধতি

যেমন ব্লগ ডেক্স
আগস্ট ২৮, ২০২১ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ad

আমাদের এই বাংলাদেশের প্রচুর পরিমাণে রসুনের চাষ করা হয়। রসুন খুবই জনপ্রিয় একটি মসলা, শুধু তাই নয় এটি একটি ওষুধ ও বটে। রসুনের অনেক ধরনের উপকার রয়েছে যা বলে শেষ করার মতো না। এখন আমরা আলোচনা করব রসুন চাষ করার পদ্ধতি ও উপকারিতা সম্পর্কে।

আপনারা হয়তো সবাই ইতিমধ্যে অবগত আছেন রসুন এর উপকারিতা সম্পর্কে। আসলে রসুন আমরা শুধু তরকারিতে মসলা হিসেবে ব্যবহার করিনা বরং আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খাদ্যতালিকায় ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করে থাকি। কারণ রসুনের অনেক ধরনের গুনাগুন রয়েছে যা আমাদের সকলের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনারা জেনে অবাক হবেন যে রসুন আমাদের শরীরে কি কি উপকার করতে পারে,যা ডর্জন ধরে ওষুধ খেলেও কাজ হয়না। আপনি কি ঔষধ খেতে খেতে হারিয়ে গিয়েছেন? ওষুধ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন আপনি নিয়মিত সঠিক নিয়মে রসুন খান ইনশাআল্লাহ ঔষধের থেকেও অধিক কাজ হবে। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক রসুন চাষ করার পদ্ধতি ও উপকারিতা সম্পর্কে।

মাটি

মাটি হতে হবে জৈব পদার্থ যুক্ত এবং এই মাটিকে গুড়া করলে সহজে গুড়া হয় সেই মাটি রসুন চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত মাটি। তাই রসুন চাষ করার জন্য জৈব পদার্থ যুক্ত মাটি এবং এটি সহজে গুড়া হয় এই ধরনের মাটি নির্বাচন করা জরুরি।

ad
আরো পড়ুনঃ  ফেসবুক পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার নিয়ম

জাত

রসুন চাষ করতে হলে রসুনের জাত নির্বাচন করা জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে রসুনের তেমন কোনো অনুমোদিত জাত দেখা যায় না, তবে স্থানীয় জাত ই চাষ করা হয় আমাদের এই দেশে।

চারা তৈরি

রসুন চাষ করতে হলে আমাদের চারা তৈরি করে নিতে হবে। রসুনের চারা তৈরি করতে হলে আমাদের প্রথমে যে কাজটি করতে হবে সেটি হল রসুনের বাইরের শাড়ি থেকে রসুন ছাড়িয়ে নিতে হবে এবং এগুলোকে বপন করতে হবে। আর রসুন লাগাতে হলে সারির দূরত্ব হতে হবে ১৫ সেন্টিমিটার করে, আর ১০ সেন্টিমিটার দূরে মাটির গভীরে ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার গভীরে রসুনের চারা বপন করতে হবে। প্রত্যেকে হেক্টর রসুন লাগাতে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০কেজি রসুনের কোয়া দরকার হয়।

সার ব্যবস্থাপনা

রসুনের জমিতে হেক্টরপ্রতি গোবর সার লাগে ১০ টন করে। ইউরিয়া সার লাগে ২০০ কেজি এবং টিএসপি সার লাগে ১২৫ কেজি, এমওপি সার লাগে ১০০ কেজি, জিংক সালফেট সার লাগে ২০ কেজি, বোরাস্ক লাগে ১০ কেজি এবং জিপসাম সার লাগে ১০০ কেজি। প্রথমদিকে জমি তৈরি করতে হলে জমিতে গোবর, টিএসপি, জিংক সালফেট,বোরাক্স ও জিপসাম মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে চাষ করে দিতে হবে। রসুন লাগানোর পরে ৩০ দিন পর প্রথম কিস্তিতে সার প্রয়োগ করতে হবে এবং ৬০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তিতে সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রত্যেকবার সার প্রয়োগের সময় প্রতি হেক্টর প্রতি ১০০কেজি ইউরিয়া সার দিতে হবে আর এমওপি সার দিতে হবে ৫০ কেজি করে।

আরো পড়ুনঃ  স্বপ্নের নায়ক সেই তুমি • পর্ব-২

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা

মাটিতে যখনই রসের ঘাটতি হবে তখনই সেচ দিতে হবে। এছাড়াও সেচ দেওয়ার পর নিড়ানি দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করতে হবে এবং যদি আগাছা থাকে তাহলে নিরিন দিয়ে নিড়ানি দিতে হবে এবং আগাছা গুলি উঠিয়ে ফেলতে হবে।

রসুন গাছের পোকা

পোকার নাম প্রিপস। এই পোকার আকার ছোট বলে জমিতে এটি তেমন দেখা যায় না, কিন্তু এই পোকা রসুনের পাতার রস চুষে খেয়ে নেয় ,তাই রসুনের পাতা শুকিয়ে যায়। স্ত্রী পোকা দেখতে হলুদ আকার এবং বাচ্চা পোকার রং সাদা অথবা হলুদ রঙের হয়ে থাকে।

এসব পোকার পিঠের ওপর দিয়ে লম্বা দাগ দেখা যায়। পাতার রস চুষে খায় বলে পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং আক্রমণ যদি অনেক বেশি হয় তাহলে পাতা শুকিয়ে মারা যায়। স্ত্রী পোকা রসুনের পাতার ভেতর ঢুকে ৪৫ থেকে ৫০ টা করে ডিম পেড়ে বাচ্চা জন্ম দেয়, এই পোকা দমন করতে হলে আঠালো ফাঁদ পেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়।

সংগ্রহ

যখন রসুন এর পাতা শুকিয়ে যায় এবং হলুদ হয়ে যায় অথবা হলুদ হয়ে নেয়ে পরে তখন রশুন তোলা যাবে। রসুনের পাতা যখন শুকিয়ে যাবে তখন রসুনের শুকনা পাতা সহ রসুন তুলে এনে রোদে শুকিয়ে তারপর শুকনো পাতা গুলা কেটে রসুন সংরক্ষণ করা হয়।

আরো পড়ুনঃ  ছোলা খাওয়ার উপকারিতা

উৎপাদন

যেসব দেশগুলোতে রসুন বেশি উৎপন্ন হয় সেসব দেশগুলো হচ্ছে, ভারত, বাংলাদেশ, মিশর ইত্যাদি দেশগুলোতে অধিক পরিমাণে রসুনের আবাদ করা হয় এবং এসব দেশটিকে সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হয়।

উপকার

  • রসুনের অনেক ধরনের উপকার রয়েছে তার মধ্যে কয়েকটি উপকারের কথা আলোচনা করা হল।
  • মানবদেহের শরীরের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
  • রক্তচাপ কমে যায় রসুন খাওয়ার মাধ্যমে।
  • করোনারি হার্ট এসবে যে রোগ হয় সেই রোগের জন্য উপকারী।

পুষ্টি

রসুনের যেসব পুষ্টি পাওয়া যায় তার মধ্যে ক্যালসিয়াম, আমিষ ও ভিটামিন সি অধিক পরিমাণে পাওয়া যায়। এছাড়াও রসুনের অনেক ধরনের উপকার রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদেরও প্রত্যেকদিন রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। অনেক অনেক ওষুধ খেয়েও যেই উপকার আমরা পায় না আমরা যদি নিয়মিত সঠিক নিয়মে রসুন খাই তাহলে আমরা উপকার পাবো। আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন। সবাই ভাল থাকবেন ধন্যবাদ।